সিলেটের পথে পথে… on the way to Sylhet

অনেক দিন ধরে প্রায় গৃহ ও কর্ম বন্ধী । তার উপর ঢাকার যানজট তাই ঢাকার বাইরে যাওয়ার একটা সুযোগের সন্ধানে ছিলাম। অবশেষে সুযোগটা চলে আসলো, রেলের টিকেট কেটে বৃহস্পতিবার রাতের গাড়িতে উঠে পরলাম আমরা ৬ জন… আমি, সম্রাট ভাই, জর্জ, তন্ময়, মিশু ও তওহীদ ভাই… প্রথম উদ্দেশ্য শ্রিমঙ্গল … রাত ১০:৩০ মিনিটে উপবন এক্সপ্রেসে ঢাকা বিমান বন্দর রেল ইস্টেসন থেকে উঠে পড়লাম সবকিছু ঠিক থাকলে রাত তিনটাই আমরা শ্রিমঙ্গল পৌছাব। ট্রেনে উঠিই কিছু অজানা মানুসের সাথে পরিচয় যা সাধারণত বাসে সম্ভব হয়না। তারপর যাত্রা শুরু, যাত্রা পথে নানা কথা, তাস খেলা, কবিতা পাঠের মধ্যে ভালই সময় যাচ্ছিল, হঠাৎ কেন যানি ট্রেনটা থেমে গেল তখন রাত ২:৩০, পরে জানতে পাড়লাম ট্রেনটা শ্রীমঙ্গল ইস্টেসনে ঢোকার সিগন্যালের জন্য অপেক্ষা করছে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ট্রেনটা আবার চলতে শুরু করলো। অবশেষে আমরা যখন ট্রেন থেকে নামলাম ইস্টেসনের ঘড়িতে তখন ভোর ৪টা। এখন শুধুই ভোরের আলোর অপেক্ষা। এর মধ্যে আমার ও সাম্রাট ভাইয়ের চা খেতে মন চাইলো তাই সবাই মিলে ইস্টেসনের কাছে একটা রেস্তোরাই গেলাম সেখান থেকে গরম চা ও পরোটা নিয়ে প্রি নাস্তা করলাম। আবার ইস্টেসনে ফিরে অপেক্ষা করতে লাগলাম। সবে মাত্র ভোরের আলো উঠতে শুরু করেছে। ইতি মধ্যে সম্রাট ভাইয়ের এক পরিচিত তার গাড়ি পাঠিয়ে আমাদের নবীগঞ্জ নিয়ে গেলেন। নবীগঞ্জে প্রায় তিন ঘণ্টা থেকে সিএনজি করে আবার শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গলে সকালের নাস্তা করে একটা অটো-রিকশা করে আমাদের প্রকৃত যাত্রা শুরু করলাম। অটো-রিকশা করে প্রথমে নীলকণ্ঠ চা রেস্তোরাই গেলাম ৭ রঙের চা খেতে। যাওয়ার পথে চা বাগানের মনোরম দৃশ্য মনের ভিতর বদ্ধ থাকা সকল অজানা ইচ্ছাগুলো যেন এক নতুন মাত্রা পেল।  নীলকণ্ঠ চা রেস্তোরাই কিছু সময় কাঁটিয়ে এইবার উদ্দেশ্য ল্যাওয়াছারা জাতীয় উদ্দ্যান। আবার সেই চা বাগান। মাঝে মাঝে রাবার বাগান, আমি তো ভুলকরে দুরের রাবার বাগানকে চা বাগান বলে ফেলি, এই নিয়ে অবশ্য তওহীদ ভাই আমাকে এখন পচায়। পাহাড়ি রাস্তার কারনে আমাদের প্রায় আটো-রিক্সা থেকে নেমে হাটতে হই। অবশেষে আমরা ল্যাওয়াছারা জাতীয় উদ্দ্যানে প্রবেশ করলাম, যদিও উদ্দ্যানের প্রধান ফটক অনেকটাই দূরে তবুও আমরা আটো-রিক্সাটাকে বিদায় করলাম। তারপর প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে ল্যাওয়াছারা জাতীয় উদ্দ্যানের প্রধান ফটকে পৌছালাম। তবে এই ৫ কিলোমিটার রাস্তাটা ছিলো আমার কাছে এক অন্যন পাওয়া। বনের মাঝে দিয়ে হাটা কিছুক্ষণ পর পর দুইএকটা গাড়ি আমাদের ফেলে সামনে চলে যাচ্ছিল। ল্যাওয়াছারা জাতীয় উদ্দ্যানে অনেকটা সময় পার করলাম। বনের মাঝে রেল লাইন দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর ট্রেন আমাদের অতিক্রম করছিল। আমরাও রেল লাইনের পাশে ও উপরে বসে এই মজাটা নিচ্ছিলাম, আর পার্কে আসা মেয়েদের সাথে কিচ্ছুটা মজা নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। অবশ্য মনের ভিতর মায়ের ভয়টাও ছিল। যখন ল্যাওয়াছারা জাতীয় উদ্দ্যান থেকে বেরহলাম তখন ঘড়িতে ২:৩০ মিনিট, প্রায় ৩০ মিনিট দাড়িয়ে থকেও যখন গাড়ি পাচ্ছিলাম না তখন সবাই হেঁটে যাওয়ার সিধান্ত নিলাম, কিন্তু তন্ময়, ও তওহীদ ভাই ক্ষুদার কাছে হারমেনে আর হাঁটতে চাইলোনা। তাই তন্ময় ও তওহীদ ভাই কে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে বলে আমরা বাকী চারজন হাঁটতে শুরু করলাম উদ্দেশ্য ভানুগাছ। কিছুদূর যাওয়ার পর পিছনে ফিরে দেখি একটা চান্দের গাড়ি হাতের ইশারাই গাড়িটা থামিয়ে উঠবো দেখি তন্ময় ও তওহীদ ভাই আগের থেকেই এই গাড়িতে। আমরাও উঠেপরলাম। সাম্রাট ভাই ও মিশু তো আগেই গাড়ি ছাদে নিজেদের যাইগা করে নিলো, এই দিকে আমি, জর্জ, তন্ময় ও তওহীদ ভাই বানরেন মত গাড়ির পিছোনে ঝুলতে থাকলাম। প্রায় ৩০ মিনিট পর আমরা ভানুগাছ এসে পৌছালাম। ভানুগাছে নেমে খাওয়ার হোটেল খুজতে শুরু করলাম। অবশেষে রাধূনী নামের একটা হোটেলে খাওয়ার জন্য প্রবেশ করলাম। যার খাবার আমাদের কাছে এতোই পছন্দ হলে যে আমাদের সিলেটের আর কোন হোটেলের খাবার ভাল লাগলোনা। ভানুগাছ থেকে খাবার খেয়ে একটা সিএনজি নিয়ে মৌলভীবাজার এর উদ্দেশ্যে আবার আমাদের যাত্রা শুরু করলাম। তারপর মৌলভীবাজার থেকে বাসে করে সিলেট শহরে প্রবেশ করলাম। তওহীদ ভাই আমাদের জন্য আগের থেকেই একটা গেস্ট হউজে থাকার ব্যবস্থা করে রেখে ছিল। আমরা সবাই ঐখানে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে, হযরত শাহ্‌ জালাল (রঃ) এর মাজার শারিফ যিয়ারত করতে বের হলাম এবং রাতের খাবার খেয়ে গেস্ট হউজে ফিরলাম। তারপর আমরা আমাদের ক্লান্ত শরীরটাকে বিছানার কাছে সপে দিলাম।

অতপর পরে …………

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s